বেঁচে গেছো! ____অভিজিৎ কর্মকার
বেঁচে গেছো!
____অভিজিৎ কর্মকার
আমাদের প্রথম ডাক
তখন তুমি, কয়েক কিলোমিটার দূরে।
গভীর ঘুর্নাবর্তে সংহারের দ্বিতীয় ডাক
আসতে না আসতেই
বেমালুম তুমি সৌরবর্ষ পাড় করে ফেললে!
আমার এই মাতৃভূমি, আমার এই শস্য-শ্যামলা বাংলায়
ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য আজ এতোটাই মলিন!?
সভ্যতার চূড়ায়, তৃতীয় ডাক যখন
ধরিত্রীর বুকে হাঁফাতে হাঁফাতে
' মানব সভ্যতা ' আসলে কী - জানতে চাইছে,
তখন তুমি, হয়তো - সৌরবর্ষ ছাড়িয়ে আলোকবর্ষ দূরে, পৌঁছেগেছো একান্ত আপন গন্তব্যে!
কি, তাই তো!?
আমরাও বুঝি, তুমিও বুঝে গেছো
আসলে আমরা ' মানব সভ্যতা'র নামে
ঠিক কী উপহার তোমায় দিয়েছি?
তুমিও বুঝেছ, এই সভ্যতার অস্তিত্ব
ঘুরে ঘুরে সেই গুটি কয়েক অতি দানবের হাতে।
একদিকে প্রেসার কুকারের ভিতরে
সেদ্ধ হয়ে ওঠা প্রাণ ওষ্ঠাগত কোটি কোটি কর্মকুশলী।
আর অন্যদিকে অলিতে গলিতে
ক্রমবর্ধমান তোমার খোলস পুজোর
নির্ভেজাল আয়োজন!
বাড়ছে, বাড়ছে! আলোর উৎসব বাড়ছে!
মাদকের পুকুরে
আজ নাক ডুবিয়ে স্নান করছে
তোমারই হাতে গড়া সেদিনের
ছোট্টো ফুলের কোটি কোটি পাপড়ি গুলো!
কেনো - তুমিও জানো।
জন্মের সাথে, ওদের নামের সাথে, পোশাকের সাথে, আর কি কি যোগ করেছে এই ' সভ্যতা ' ।
তুমি এটাও দেখে ফেলেছো!
কেউ কেউ মজা দেখছে, কেউ পায়ে ঠেলে এগিয়ে যাচ্ছে।
কি বলো - এগিয়ে যাচ্ছে তো!?
কলমকুষ্মাণ্ড একান্তেই দাঁড়িয়ে, পা বাঁধা।
মাথা নীচু করে পরিবেশের উষ্ণতা মাপছে!
মাপছে তো মাপছেই।
বিচিত্র নেশায় নৈশ্যভোজ চলছে বুঝি!
সভ্যতার সাজানো স্টেশনে , হাইলাইট বক্সে,
কই; জ্বলজ্বল করে আসছে না তো!
তুমি সব দেখছো, জানি।
ঘোর কাটলেই, বার বার আতকে উটছে মানবতা!
ঘোর কাটলে, বার বার আতকে উটছে ফুলের পাপড়ি গুলো।
তুমিও দেখছো।
সভ্যতার স্টেশনে , হাইলাইট বক্সে,
কই; আসছে না তো পরিষ্কার করে!?
ওরা বুঝতে পারছে, শহর ছাড়তে হবে, রাজ্য ছাড়তে হবে, দেশও ছাড়তে হতে পারে!
তারপর ?
তল্পি তল্পা বিসর্জন দিয়ে,
আরও আরও বিচিত্র অনুষ্ঠানের চোখ ধাঁধানো আলোর ভিতর দিয়ে চুপি চুপি হেঁটে, তোমার খোলস পূজো করে, তোমাকেই ছাড়তে হচ্ছে ওদের!
ওরা ; বুঝতে পারছে কী ?!
তুমিও বেশ; বেশ বুঝতে পারছো।
আজ বেশ করেছো সবাইকে ছেড়ে, বেঁচে গেছো!
ছেড়ে গেছো এ ধরিত্রী, এই সভ্যতাকে আলোকবর্ষ দূরে!
ওরা দেখতে না পেলেও,
আমি যে তোমায় দেখতে পাই।
যতদূরেই যাও না কেনো, আমি ঠিকই তোমায় দেখতে
পাই।
Comments
Post a Comment