Posts

Showing posts from March, 2024

স্বাধীনতা তোমাকে ____মোফতাহিদা খানম রাখী

স্বাধীনতা তোমাকে ____মোফতাহিদা খানম রাখী  স্বাধীনতা তোমাকে দেখেছি        লাল সবুজের পতাকায়  তুমিতো রয়েছ মিশে        দিগন্ত ছুঁয়ে সূর্যের লালিমায়।  স্বাধীনতা তোমাকে চিনেছি       স্বদেশের প্রতি ভালোবাসায় আপন করে  রেখেছ হৃদয়ে         ভালোবাসার মনিকোঠায়।  স্বাধীনতা তোমাকে পেয়েছি        আপনাকে খুঁজে পাওয়ার আকুলতায়  তুমিতো রয়েছ জড়িয়ে        একান্ত অনুভবে আপনায়।  স্বাধীনতা তোমাকে স্মরি        প্রতিক্ষনে বেলায় অবেলায় বুক ভরে তাই নিচ্ছি নিঃশ্বাস         সার্বভৌম স্বাধীন বাংলায়।          স্বাধীনতা তোমাতে জেগেছি        অনুপ্রেরণার দীপ্ত শিখায় তাইতো তোমাকে করছি লালন          আবেগ মাখা শ্রদ্ধায়।

স্বাধীনতার ডাক ___মোফতাহিদা খানম রাখী

 আজ সেই ভয়াল কালো রাত। পঁচিশ মার্চ। আজ থেকে বায়ান্ন বছর আগে এই রাতে পাক সেনারা অতর্কিতে হামলা করেছিল নিরিহ বাঙালির উপর। নির্বিচারে হত্যা করেছিল অগনিত মানুষকে। আর এই রাতেই বঙ্গবন্ধু জাতির উদ্দেশ্য স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। পাক বাহিনির কাছে বন্দী হওয়ার প্রাক্কালে ছিল তার এই আহবান। এই ঐতিহাসিক দিনটিকে স্বরন করে আমার এই নিবেদন ঃ স্বাধীনতার ডাক ___মোফতাহিদা খানম রাখী  পঁচিশ মার্চের সেই      ভয়াল কালো রাত যেই রাতেতে পাক বাহিনী        হয়েছিল উম্মাদ । সদলবলে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল       বাংলার লোকালয়ে নির্বিচারে করেছিল হত্যা        সাধারণ জনগনে।  অতর্কিতে নিয়েছিল কেড়ে        অগনিত তাজা প্রাণ  আবাল, বৃদ্ধ বনিতা কেহই       পায়নিকো পরিত্রাণ।  বুঝেছিল নেতা বাংলার পিতা       দিয়েছিল তাই ডাক ঝাঁপিয়ে পড় যার যা আছে নিয়ে       করতে অন্যায়ের প্রতিবাদ।  আমরা বাঙালি ভীতু জাতি নই        অধিকার করবনা খর্ব ফিরিয়ে নিব প্...

পাথুরে মন ____মোফতাহিদা খানম রাখী

 পাথুরে মন  ____মোফতাহিদা খানম রাখী  খুব বেশি বিশ্বাসের পর          যখন বুঝতে পারা যায় অপর দিকের আপন মানুষটি           কভু বিশ্বাসেরই যোগ্য নয়। তোমার সরলতার সুযোগ নিয়ে          তোমার বিশ্বাস নিয়ে খেলছে অথচ তোমায় বিশ্বাস না করে          সর্বদা শুধুই অবিশ্বাস করছে। জানার পরে বলার কিছু           থাকবে না তো আর বিশ্বাস ভেঙে মনটি তখন           হয়ে যাবে যে পাথর। সেই পাথরেও হৃদয় থাকে          শক্ত আবরণে ঢাকা চার-পাশটা  ভীষণ শুন্যতায়          হয়ে থাকে যেন ফাঁকা।  প্রিয়জন থেকে বিশ্বাস হারিয়ে          যখন  হৃদয়ে হয় ঘা ঔষধ পথ্য বদ্যি ডাক্তারে          কভু ও তা সারেনা। তাইতো বিশ্বাস করতে হলে          যাচাই করে নিতে হয় তানা হলে অবিশ্বাসের ফলে          মন ভেঙে চূর...

বয়সের মূল্য ____মোফতাহিদা খানম রাখী

 বয়সের মূল্য ____মোফতাহিদা খানম রাখী  ষোলো আনাই বয়স আমার            চলে গেছে বয়ে,  বাকি যা আছে সে-তো           বোনাস হিসেবে রয়ে।  শৈশব কৈশোর যৌবন বার্ধক্য          সবই ছিল মধুর,  বোনাস বয়সে বুঝতে পেরেছি           জীবনটা শুধুই ধুসর। টেনে হিচড়ে চলতে হয়           জীবন খানা লয়ে, আজরাঈল বুঝি আসছে ধেয়ে           মরণ বার্তা বয়ে।  সঙ্গি সাথি যারা ছিল            তারা হলো পর,  নিঃসঙ্গতা শুধুই সম্বল হলো            নেয়নাতো কেউ খবর।  অতি কস্টে দিনযে কাটে           মৃত্যুর প্রহর গুনে,  অনাদর আর অবহেলায় আজ           বিষাদ জমে মনে।  এমন জীবন কারো জানি            বইতে নাহি হয়, মৃত্যু এনে তুলে নাওগো           হে খোদা দয়াময়। ...

স্মৃতি হয়ে ____মোফতাহিদা খানম রাখী

 স্মৃতি হয়ে  ____মোফতাহিদা খানম রাখী  আমার এক চিলতে ভালোবাসা          সে-তো চিলে কোঠার ঘর, মন খারাপে সঙ্গি সে-যে          বাকি সবটাই যেন পর। ছোট্ট থেকেই সব স্মৃতিতে         সুখে দুঃখের আপন জন, ভাবিনিতো কভু এই ঘরকে       ছেড়ে কাটাতে হবে জীবন।  বাবার বাড়ি ছেড়ে যখন         যেতে হলো শ্বশুর বাড়ি, চির দিনের সঙ্গি আমার         গেলাম চিলে কোঠাকে ছাড়ি। সেথায় গিয়ে পেলাম খুঁজে          নতুন করে আপন ঘর, সাজিয়ে গুছিয়ে করলাম তাকে         নিজ আলয়ের নিত্য বাসর। অনেক স্মৃতির চারণ শালা         নিজ হাতে তুললাম গড়ে, সাজানো এই বাগান খানা         ভেঙে গেলো অবহেলার ঝড়ে। স্মৃতি গুলো রইলো পড়ে         একান্ত আপন সত্তার নীড়ে,  মনের মাঝে রাজ্য গড়ে        স্মৃতি হয়ে রয়েছে ঘিরে।

বেঁচে গেছো! ____অভিজিৎ কর্মকার

 বেঁচে গেছো! ____অভিজিৎ কর্মকার  আমাদের প্রথম ডাক তখন তুমি, কয়েক কিলোমিটার দূরে। গভীর ঘুর্নাবর্তে সংহারের দ্বিতীয় ডাক আসতে না আসতেই  বেমালুম তুমি সৌরবর্ষ পাড় করে ফেললে! আমার এই মাতৃভূমি, আমার এই শস্য-শ্যামলা বাংলায় ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য আজ এতোটাই মলিন!? সভ্যতার চূড়ায়, তৃতীয় ডাক যখন  ধরিত্রীর বুকে হাঁফাতে হাঁফাতে ' মানব সভ্যতা ' আসলে কী - জানতে চাইছে, তখন তুমি, হয়তো - সৌরবর্ষ ছাড়িয়ে আলোকবর্ষ দূরে, পৌঁছেগেছো একান্ত আপন গন্তব্যে! কি, তাই তো!? আমরাও বুঝি, তুমিও বুঝে গেছো আসলে আমরা ' মানব সভ্যতা'র নামে  ঠিক কী উপহার তোমায় দিয়েছি? তুমিও বুঝেছ, এই সভ্যতার অস্তিত্ব ঘুরে ঘুরে সেই গুটি কয়েক অতি দানবের হাতে। একদিকে প্রেসার কুকারের ভিতরে সেদ্ধ হয়ে ওঠা প্রাণ ওষ্ঠাগত কোটি কোটি কর্মকুশলী। আর অন্যদিকে অলিতে গলিতে ক্রমবর্ধমান তোমার খোলস পুজোর  নির্ভেজাল আয়োজন! বাড়ছে, বাড়ছে! আলোর উৎসব বাড়ছে! মাদকের পুকুরে  আজ নাক ডুবিয়ে স্নান করছে তোমারই হাতে গড়া সেদিনের ছোট্টো ফুলের কোটি কোটি পাপড়ি গুলো! কেনো  - তুমিও জানো। জন্মের সাথে, ওদের নামের সাথে, পোশাকে...

সে কূজন ___অভিজিৎ কর্মকার

Image
  সে কূজন ___অভিজিৎ কর্মকার সে ঝড় কি আর এখন ওঠে ? সে পায়েল কি আর এখন গায় ? সে দিন যখন পাখির মতো  দূর দিগন্তে মিলিয়ে যায় ?! সে ঝড় কি আর এখন ওঠে ? সে ফুল কি আর এখন ফোটে ? সে দিন যখন পিছনে ফেলে আমরা সবাই এগিয়ে যাই !? সে ঝড় যখন উঠত বনে চড়ুই টিয়ার আপন মনে, ভেবে ভেবে কাটতো বেলা টের পেতোনা আপন জনে। সে পায়েল, ছিলো তখন তরুলতা সে তরু, বাড়ত তখন উদাস গানে। পথে পথে সে গান তখন  পাইয়ে দিত বাঁচার মানে। সে পাখি, ধরা দিত সংগোপনে সে কূজন, ছায়ার মত আসতো ধেয়ে। সে যখন, মেঘের সাথে হটাত কোথাও  আসতো ঝড়ের খবর নিয়ে।

চৌকাঠ পেরিয়ে তেপান্তরে ___ অভিজিৎ কর্মকার

Image
  চৌকাঠ পেরিয়ে তেপান্তরে ___ অভিজিৎ কর্মকার চিৎকার করতে হয় তো করো কিন্তু বদ্ধ কলসীর ভিতর  মাথা ঢুকিয়ে নয়। বারুদের ছড়ানো অলস বিষবাষ্পে নাক ডুবিয়ে নয়! যে বারুদের বিষ শতাব্দীর পর শতাব্দী বয়ে চলেছে। পারলে ; সে কলসী ভেঙে দাও পারলে ;  সে নাকও কেটে দাও! অশনির ধ্বনিতে প্রাণকেন্দ্রে খঞ্জনি বেজে উঠুক । বেজে উঠুক ঢাক, ছাই এর ভিতর ঘুমিয়ে থাকা দগ্ধ মমির কফিনেও। চারিপাশের মতো তোমার রাস্তায়  ফুল ফুটুক আর ছাই না ফুটুক। অন্যের ডানা কেটে নয় নিজের ডানা মেলে শুধু উড়ে যাও একবার  একবার নিজের চৌকাঠ পেরিয়ে তেপান্তরে। দেখবে শুধু নিজের উচ্চতা কেনো পাহাড়ের উচ্চতাও মাপতে শিখে ফেলছ! খোলা আকাশেরও দায়বদ্ধতা আছে সেও জানুক।

মনে রেখো ___অভিজিৎ কর্মকার

Image
  মনে রেখো    ___অভিজিৎ কর্মকার যে সময় অলীক আলোয় থমকে থাকে  যে আলোর মন ধাঁধানো কথার পাকে সে আলোয় শহর হারায় নিজের ছবি জানো কী তা আমাদেরই বন্দী রাখে ? তোমরা কি সব পরীর মতো একলা ওড়ো  অলীক আলোয় বেশ যদি পাও আঁকশি ধর তোমরা কি সব দাঁড়িয়ে থাকো মেঘের উপর  জলের নামে কিসের আশায় কলসি ভর! তোমার নামে ঠিক সে লেখে করুন পরিণাম উল্কা পথে যখন তুমি একলা চলো শহর হতে গ্রাম। মনে রেখো , মনে রেখো।। যে গানেতে তোমায়-আমায় রাখতো আপন করে বহু দূরে সেই গানটি আজকে কেনো কোথায় গেল ছেড়ে ? মনে রেখো, মনে রেখো।। যে আলো আজ ঝিলমিলিয়ে দেহের উপর যে আলো আজ কলুষিত আজব গানে  হয়তো তাদের দানব রচে। আর এক আলো কেউ কি খোঁজো মনের ভিতর যেখানে ভাই ময়ূর নাচে ? মনে রেখো, মনে রেখো।।

শব্দডানায় কলমে: অভিজিৎ কর্মকার

Image
  শব্দডানায়  কলমে: অভিজিৎ কর্মকার চরাই উৎরাই পাহাড় অনেক হেঁটেছি আর কথা কইয়ো না, এবার একটু দাঁড়াও! একান্ত নির্জন দুপুরে গনগনে আঁচের  বুকচেরা পদধ্বনি, ঝোঁপের মধ্যে; তেরো নদীর ওপার থেকে উড়ে আসা চড়ুইয়ের কিচিরমিচির, চারিদিকে সাজানো পলাশ-শিমুল, শিরিষ-কদম্ব  হয়তো আর লাগবে না! ভগ্নপ্রায় শ্যাওলাধরা দেবালয়ের পাশে জবা ও বেলফুলের উঁকিঝুঁকি? না তাও থাক , এখন রাত্রি! পায়ে পায়ে একটু বাতাস আর  অন্ধকার পথে ঝিঁঝিঁর শব্দটাই থাক। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের পাহাড় টপকে এই ঝিঁঝিঁর শব্দটাই বড্ড ভরসার। এমন শব্দডানায় ভর করে  বেশ তো পৌঁছে যাবো জোনাকির ঘর! নিজের পিঠে করে সে তার অতিথিদেরকে  নিয়ে যাবে বলেছে সেই নক্ষত্রখচিত স্টেশনে। মনে পরে? জানলার ভিতর থেকে ছোট্টো বেলার দেখা সেই বিস্ময়কর স্টেশন? সকলেই সেখানে পৌঁছাবো। খেয়ালের আম-জাম-কাঁঠাল বা বাঁশবন, বহাল স্রোতস্বিনী নদী বা বদ্ধ পুকুর পেরিয়ে ঠিক পৌঁছে যাবো। কেউ আগে, কেউ একটু পরে! যুগ যুগ ধরে বানানো সিঁড়িগুলো থাকুক অটুট।